ইনফ্রারেড হিট ব্যবহার করে ডেন্টাল চেয়ারে থাকা শিশুদের শান্ত রাখা যায়। সত্যি বলতে, বেশিরভাগ শিশুরাই ডেন্টিস্টকে ভয় পায়। এর কারণ হলো ডেন্টাল চেয়ারে বসার মুহূর্তেই তাদের মনে উদ্বেগ জন্ম নেয়। এজন্যই আমরা লাল ও নিয়ার-ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করছি। শুধুমাত্র দাঁতের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে, আমরা শিশুটির স্নায়ুতন্ত্রের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। কোনো চিকিৎসা শুরু করার আগে সামান্য ইনফ্রারেড তাপ প্রয়োগ করলে শিশুটির মানসিক চাপ কমে যায়। কেন তাপ কার্যকর? ভাবুন তো, গরম জলে গোসল করলে বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করলে কেমন লাগে। এখানেও একই ধারণা। ইনফ্রারেড আলো মাড়ি ও টিস্যুগুলোর গভীরে প্রবেশ করে সেখানে আরামদায়ক তাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে রক্তনালীগুলো খুলে যায়; এর ফলে ব্যথার অনুভূতি কমে যায় এবং মুখের চারপাশের পেশীগুলো শিথিল হয়। যখন শিশুটি এই মৃদু তাপ অনুভব করে, তখন তার “লড়াই বা পালানো” অবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিশুটি সহযোগিতা করে। প্রযুক্তিগত দিকসমূহ শুধুমাত্র তাপ প্রয়োগ করলেই হবে না। আমরা কম তীব্রতার আলো ব্যবহার করি (বিশেষত ৬৬০ন্যানোমিটার থেকে ৮৫০ন্যানোমিটার পরিসরে), যাতে মুখের নাজুক ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। লক্ষ্য হলো রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখা; কিন্তু ত্বক অতিরিক্ত গরম না হওয়া। সময়টাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চিকিৎসার সময়কালকে সংক্ষিপ্ত রাখি; কারণ অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ করলে প্রদাহ হতে পারে। এটা কোনো জাদুর ছড়ি নয় মনে রাখবেন, এটা সব শিশুর ক্ষেত্রেই কার্যকর নয়। কিছু শিশু তাপের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল; তাদের ক্ষেত্রে তাপ আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। শিশুটির বয়স ও ত্বকের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করেই আলোর তীব্রতা নির্ধারণ করতে হয়। আরও, স্পষ্ট দৃষ্টিসীমা প্রয়োজন। যদি শিশুটি নড়ে যায় বা তার গালটি আলোর পথে আসে, তাহলে আলো টিস্যুগুলোতে পৌঁছায় না; ফলে শান্তিকারক প্রভাবটি অদৃশ্য হয়ে যায়। তাই আমরা মনে করি, এটা চিকিৎসা শুরু করার আগে একটি “উষ্ণতা-প্রয়োগ” হিসেবে ব্যবহার করাই ভালো; চিকিৎসার সময় ব্যস্ততা সৃষ্টি করার জন্য নয়।